Notice :
আমাদের নিউজ সাইট এ আপনার প্রতিষ্ঠান এর বিজ্ঞাপন দিন আর প্রতিষ্ঠান কে পরিচিত করে তুলুন বিশ্বব্যাপি।
সংবাদ শিরোনামঃ
মিরপুর প্রেসক্লাবের নতুন দ্বি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন ভেড়ামারায় ৪৮ গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর হস্তান্তর সাংবাদিকদের সাথে পৌর মেয়র পদপ্রার্থী আনোয়ারুল কবির টুটুলের মতবিনিময় কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটি গঠিত ভেড়ামারায় রাগিব রউফ চৌধুরীর নির্দেশক্রমে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ভেড়ামারায় দেশের বাণীর ৮ম বর্ষ পূর্তি উদযাপন মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি’র নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় অনলাইন প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ  ভেড়ামারা বিলশুকা শান্তি সংঘের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের মামুনের মৌ-খামার পরিদর্শন ভেড়ামারা অনলাইন প্রেসক্লাবের সঙ্গে‌ কাউন্সিলর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান শোভনের মতবিনিময়
টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে উঠছে প্রাকৃতিক গ্যাস

টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে উঠছে প্রাকৃতিক গ্যাস

টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে উঠছে প্রাকৃতিক গ্যাস। স্থানীয়রা দিয়াশলাই ও মোমবাতি দিয়ে গ্যাস থেকে আগুন জ্বালিয়ে আনন্দ করছে। কেউ কেউ টিউবওয়েল থেকে গ্যাস বের হওয়ায় ভয়ে টিউবওয়েল ও মাটিতে বসানো পাইপ উঠিয়ে গর্ত ভরাট করে দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছে মানুষ।

এমন ঘটনা ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন ৩ নং ওয়ার্ডের চর সুলতানি গ্রামে। সরকারিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওই গ্যাস উঠানোর দাবি স্থানীয় গ্রামবাসীর।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন টিউবওয়েলে গড় গড় শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত দেড় মাসে দেড় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ৩টি সেলো টিউবওয়েল জন্য পাইপ বসালে সেখান থেকে পানি প্রবল বেগে উঠতে থাকে এবং একটি গন্ধ বের হয়। টিউবওয়েল শ্রমিকদের কাছে বিষয়টি সন্দেহ হলে তারা পাইপে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তখন পাইপ থেকে আগুন জ্বলতে থাকে।

ওই এলাকার জমাদ্দার বাড়ির আজিজুল রহমান জমাদ্দার বলেন, আমর বাড়ির পাশে পুকুরে পানি অনেক সময় শুকিয়ে যায়। তাই গোসল ও ধোয়ার কাজে অনেক কষ্ট হয়। এজন্য এ রোজার দুই দিন আগে একটি সেলো টিউবওয়েল বসানোর সিদ্ধান্ত নেই। শ্রমিকরা মাটিতে ২৫ ফিট পাইপ বসালেই পানি প্রবল বেগে উঠতে থাকে। শ্রমিকদের বিষয়টি সন্দেহ হলে তারা পাইপের সামনে আগুন ধরিয়ে দিলে তা জ্বলতে থাকে। তখন তারা আমাকে জানায় এখানে গ্যাস আছে। তাই তাদের অন্য স্থানে কল বসানোর জন্য বলি। সেখানেও পাইপ বসালে একই ঘটনা ঘটে। এখন টিউবওয়েল ওভাবেই পড়ে রয়েছে। আমরা গ্যাসের ব্যবহার জানি না। আর এ সম্পর্কেও জ্ঞান নেই।

একই এলাকার ব্যাপারী বাড়ির সাইফুল ব্যাপারী জানান, গত এক মাস আগে তিনি তার বাড়ির উঠানে একটি সেলো টিউবওয়েল বসান। শ্রমিকরা চলে গেলে টিউবওয়েল থেকে গড় গড় শব্দ ও গন্ধ বের হতে থাকে। তখন তারা ভয় পান। তার এক ছোট ছেলে কল শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা আগুন জ্বালিয়ে দেখতে বলেন। তাদের কথা মত আগুন জ্বালিয়ে দিলে জ্বলতে থাকে। এসময় সাইফুল ব্যাপারী ভয়ে তার টিউবওয়েলের পাইপ বের করে ফেলেন। তারপরও শব্দ ও গন্ধ বের হলে গর্তে মাটি ও বালু দিয়ে চাপা দিয়ে দেন। তাতেও শেষ হয় না।

তিনি জানান, আমার বাড়ির গ্যাস উঠছে এ খবর এলাকাবাসী শুনে ছুটে আসছে। ওই গর্তে আনন্দ করে সাবই আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে আমরা পানি দিয়ে অনেক কষ্ট করে আগুন নিভাতে থাকি।

টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে উঠছে প্রাকৃতিক গ্যাস
ডোবা থেকে উঠছে প্রাকৃতিক গ্যাস। ছবি: ইত্তেফাক

হানিফ বয়াতি জানান, গত ১৫ দিন আগে সেল টিউবওয়েল বসালে সেখান থেকেও গ্যাস বের হচ্ছে। আমরা গ্রামের মানুষ গ্যাস কী সেটা জানি না। এলাকার লোকজন বাড়িতে এসে ওই টিউবওয়েলে আগুন ধরিয়ে আনন্দ করে।

তিনি আরো জানান, তার বড় ছেলে ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি ঢাকায় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পেরেছেন, ওই গ্যাস দিয়ে রান্না করা যায়। এবার ঈদে আসলে ছেলে রান্নার করার জন্য পাইপ বসাবেন।

স্থানীয় বাচ্চু মিয়া বলেন, এ এলাকায় প্রায় দুই মাস ধরে টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। আমাদের গ্রামের মাটির নিচে গ্যাস রয়েছে এটা আমাদের জন্য একটি সুখবর।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. ফরিদ মিয়া জানান, গ্রামের এ গ্যাস সরকারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা দরকার। যদি এখানে প্রচুর গ্যাস পাওয়া যায় তাহলে উত্তোলন করে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে রান্নার জন্য লাইন দেওয়া দরকার।

স্থানীয় রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান বলেন, গ্যাস উঠার বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, বিষয়টি জেনেছি। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখছেন। আমরা এটি পরীক্ষা করার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠাবো। তখন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, আমি সরজমিনে গিয়ে ঘুরে এসেছি, ধারনা করছি মিথেন গ্যাস জাতীয় কোন গ্যাস হবে। এটি বড় কোন গ্যাসের খনি নয়।

উল্লেখ্য, ভোলার বোরহানউদ্দিন ও সদর উপজেলার ভেদুরিয়া এলাকায় দুই গ্যাস ফিল্ড রয়েছে। যার থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

ফটো গ্যালারি

CLICK HERE FOR ADVERTISE এখানে বিজ্ঞাপন দিন Order Now: +9609648647
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯